Monday, March 18, 2013

বন্ধ হওয়া বা ব্লক সাইট দেখুন বিকল্প উপায়ে

ব্লক করা ওয়েবসাইট দেখার জন্য যে ওয়েবসাইট ব্যবহার করা হয় তাকে প্রক্সি সাইট বলা হয়। এই প্রক্সি সাইট দিয়ে ব্লক করা বা নিষিদ্ধ সব সাইটে সহজেই প্রবেশ করা যায়। ইন্টারনেটে এরকম শত শত প্রক্সি সাইট রয়েছে, যা দিয়ে ডোমেইনের মাধ্যমে ব্লক করা সাইট দেখা যায় সহজেই। এই প্রক্সি সাইটগুলোর মধ্যে http://www.freeproxy.net হলো পৃথিবীর প্রথম ১০টি র্যাঙ্কড প্রক্সি ওয়েবসাইটের মধ্যে একটি। ইন্টারনেট ব্রাউজারে http://www.freeproxy.net লিখে এন্টার করার পর ঠিক মাঝামাঝি স্থানে একটি সার্চ করার জায়গা দেখা যাবে, সেখানে ব্লগ করা ওয়েবসাইটটির ঠিকানা লিখে সার্চ দিলেই সাইটটি দেখা যাবে। এ রকম আরও কিছু সাইটের ঠিকানা হলো :
http://www.zendproxy.com
http://www.pagewash.com
http://www.hidemyass.com
http://www.proxybrowsing.com
http://www.proxsafe.net
http://www.boomproxy.com
http://www.zfreez.com
http://www.proxy-server.at
http://www.newipnow.com
http://www.hidemehere.com
http://www.zend2.com
হটস্পটশিল্ডের সাহায্যে সাইট দেখা
এর জন্য http://www.hotspotshield.com থেকে ৬ মেগাবাইটের মতো এই সফটওয়্যারটি বিনামূল্যে ডাউনলোড করে ইনস্টল করতে হবে। সফটওয়্যারটি উইন্ডোজের সব সংস্করণ এবং ম্যাক অপারেটিং সিস্টেম সমর্থন করে। ইনস্টল করার পরে সিস্টেমট্রেতে লাল রঙের আইকন দেখা যাবে। এই আইকনে ক্লিক করে Connect/On-এ ক্লিক করলে ওয়েব ব্রাউজারে নতুন একটি পেজ খুলবে এবং হটস্পটশিল্ড সার্ভারের সঙ্গে কানেক্ট হবে এবং কিছুক্ষণ পরে Connected লেখা আসবে ও সিস্টেমট্রের আইকনটির রঙ সবুজ হবে। এখন যে কোনো ব্লক করা সাইট দেখা যাবে। পরে মূল আইপিতে ফিরে আসতে বা নতুন আইপি পেতে ডিসকানেক্ট করতে চাইলে ওই সবুজ আইকনে ক্লিক করে Disconnect/OFF-এ ক্লিক করলেই হবে।
প্রোএক্সপিএন দ্বারা আইপি হাইড করে সাইট দেখা
প্রোএক্সপিএনসফটওয়্যারটি ব্যবহারের জন্য http://www.proxpn.com থেকে ডাউনলোড করে ইনস্টল করুন। এখন প্রোএক্সপিএন সফটওয়্যারটিতে ইউজার (ইমেইল) পাসওয়ার্ড দিয়ে Connect বাটনে ক্লিক করুন তাহলে ভিপিএন চালু হবে এবং নতুন আইপি পাবে, যা সিস্টেমট্রেতে দেখা যাবে।
অ্যাকাউন্ট না থাকলে Create an account বাটনে ক্লিক করে রেজিস্ট্রেশন করে নিন। আর এই ইউজার পাসওয়ার্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেভ হবে, ফলে পরে ইউজার পাসওয়ার্ড দিতে হবে না। এখন যে কোনো ব্লক করা সাইট দেখা যাবে।
ডিসকানেক্ট করতে চাইলে সিস্টেম ট্রেতে মাউসের ডান বাটনে ক্লিক করতে পারবেন। হটস্পটশিল্ড এবং প্রোএক্সপিএনের মতো আরও কিছু ভিপিএন
http://www.ultrasurf.us,
http://www.privitize.com
http://www.vpnbook.com
টর ব্রাউজারের সাহায্যে সাইট দেখা
টর ব্রাউজার বহনযোগ্য বলে ইনস্টল না করে বা ফ্লাশ ডিক্স থেকে সরাসরি চালানো যায়। টর প্রজেক্টের ভেতরে মজিলা ফায়ারফক্সের বহনযোগ্য সংস্করণ থাকায় কম্পিউটারে ইনস্টল থাকা ব্রাউজার ব্যবহারের প্রয়োজন পরে না।
এর জন্য প্রথমে ফ্রি এবং বহনযোগ্য টর ব্রাউজার http://www.torproject.org থেকে ডাউনলোড করুন।
এবার আনজিপ করে Start Tor Browser চালু করুন। তাহলে Vidalia Control Panel টর সার্ভারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে। সংযোগ স্থাপন হলে বহনযোগ্য মজিলা ফায়ারফক্সটি (টর ব্রাউজার) সক্রিয় অবস্থায় চালু হবে। ফলে Congratulations. You are using Tor. মেসেজ-সম্বলিত টর প্রজেক্টের চেক পেজ আসবে ও একটি আইপি দেয়া হবে।
এখন এই বহনযোগ্য মজিলা ফায়ারফক্সের মাধ্যমে যে কোনো বন্ধ বা ব্লক থাকা ওয়েবসাইট ব্রাউজ করা যাবে।

Sunday, March 17, 2013

ঘুরে এলাম যশোর, পর্ব- ১

১০ মার্চ ২০১৩ অফিসিয়াল ট্যুর। সঙ্গে আছেন এফপিএবি’র মহাসচিব জনাব নাসির আহমেদ বাবুল এবং উপ-পরিচালক জনাব আব্বাছ উদ্দিন। এফপিএবি’র প্রেসিডেন্ট অধ্যাপিকা খালেদা খানম ও তাঁর পিএস মিস মুনাজ সুলতানাও যাওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ম্যাডামের আম্মা অসুস্থ থাকায় তিনি পরদিন প্লেনে যাবেন। আমরা দুপুরের পর রওয়ানা করে রাত ৮ঃ৩০টায় যশোর পৌঁছাই। সকাল বেলা প্রেসিডেন্ট যশোর পৌঁছার পর এসআরএইচআর এডুকেশন (দোয়েল) ক্যাম্পেইন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে সিভিল সার্জন, ডিডি-ফ্যামিলি প্ল্যানিং সহ বিভিন্ন সরকারী কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, ইমাম, কাজী, স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষক, কিশোর-কিশোরী এবং এফপিএবি’র সম্মানিত ভলান্টিয়ার ও শাখা কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। যৌন-প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার বিষয়ক এই প্রকল্পে সাথে একযোগে কাজ করার ব্যাপারে একমত হন। উপস্থিত সকলকে লাঞ্চের আমন্ত্রণ জানানোর মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ হয়। তারপর শাখা নির্বাহী পরিষদের মিটিং হয়। এরপর পড়ন্ত বিকালে তারারমেলা’র আয়োজনে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। প্রেসিডেন্ট ম্যাডাম ঢাকার উদ্দেশ্যে এয়ারপোর্ট যাওয়ার কিছুক্ষ্ণ পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়। এভাবে শেষ হয় সারাদিনের অনুষ্ঠান। পরদিন ১৮ দলীয় জোটের হরতাল থাকায় আমি রাতেই ঢাকার উদ্দেশ্যে গাড়ীতে উঠি। ফেরিঘাটের বিশাল জ্যাম ঠেলে সকাল বেলা ঢাকায় পৌঁছাই। আসার পথে আমান নামের যশোর এমএম কলেজের এক ছাত্র আসে। সে পুলিশের এসআই’র ভাইভা দিতে ঢাকায় আসে।

পুলিশের সাম্প্রতিক ক্ষমতায়ন, গণতন্ত্র ও সহিংসতাঃ বাংলাদেশ

ঘটনাঃ একটি হরতাল বা সংঘর্ষের সময় সরকার পক্ষের একজন হরতাল ঠেকাতে বা বিরোধী পক্ষকে দমনে পুলিশকে সহযোগিতা করতে ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু ঘটনার ভয়াবহতার সময় কে কোন পক্ষের তা নির্ণয় করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার পক্ষের একজন গিয়ে সরকার বিরোধী এক পুলিশের হাতে পড়ে, তখন ঐ পুলিশ সুযোগ বুঝে সরকার পক্ষের কর্মীকে বিরোধী কর্মী বলে গুলি করে দেয়। প্রমাণের কোন সুযোগ নাই। আর প্রকৃত বিরোধী কর্মী হলে তো কথাই নেই। গুলি করছে পুলিশ/দুর্বৃত্ত। সুযোগটা প্রতিপক্ষও অনেক সময় কাজে লাগায়। যদি রাজনীতির জন্য লাশের প্রয়োজন হয়।
পুলিশের সাম্প্রতিক এমন ক্ষমতায়ন ভবিষ্যতে কারো জন্য সুখ বয়ে আনবে না। হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হলে দেশ গৃহযুদ্ধের দিকে যাবে। অপরদিকে সরকার ও প্রশাসন জামায়াত-শিবিরের নৈরাজ্যকে যথাযথভাবে সামাল দিতে পারেনি। প্রথম দিকে জামায়াতকে মিছিল-সমাবেশ করতে না দেওয়া, পরে আবার জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের হামলার মুখে পুলিশের রহস্যজনক শিথিলতা প্রদর্শন-বিষয়গুলো বিজ্ঞতা ও কর্মকুশলতার পরিচয় বহন করে না। বর্তমানে সৃষ্টি হয়েছে এক ভয়াবহ সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির। এই সাংঘর্ষিক পরিস্থিতিতে যেকোনো সাধারণ ও সচেতন নাগরিক উৎকণ্ঠিত না হয়ে পারে না।
আবেগ, অনুভূতি, দাবি-দাওয়া প্রত্যাশার একটি যোগ হচ্ছে আন্দোলন। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় আন্দোলন-সংগ্রামে মানুষের আবেগ-অনুভূতির প্রকাশ ঘটে। সরকার জনগণের আবেগের মূল্য দেবে, কিন্তু তাকে চলতে হয় সাংবিধানিক বিধিবিধান ও আইনের পথে। কোনো রাষ্ট্রের তারাই দক্ষ প্রশাসক ও নীতিনির্ধারক, যারা প্রচলিত আইনকানুন ও জনগণের চাওয়া-পাওয়ার সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নেন এবং দ্রুত সমাধান করেন। দেশের স্থিতিশীলতা, শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা পালন করেন। নেতাদের ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে সংযত বক্তব্য প্রত্যাশিত।
অব্যাহত সহিংসতায় দেশের গণতন্ত্র যখন বিপন্ন হওয়ার পথে, রাজনীতিক নেতাদের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে-এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজন সঠিক সিদ্ধান্ত ও যথাযথ পদক্ষেপের। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একটি সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করে সংলাপের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি থেকে দেশকে সকলের জন্য নিরাপদ করে তোলার সঠিক কাজটিই সাধারণ মানুষ দেখতে চায়।
আন্তর্জাতিক মহল থেকেও সহিংসতার ইস্যুতে বক্তব্য আসতে শুরু করেছে। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন, আমেরিকার পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র প্যাট্রিক ভেনট্রেল, নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামসের বিবৃতির সারকথা হচ্ছে: উত্তপ্ত পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্দেশে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তাণ্ডব বন্ধ করতে এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান এবং একইসঙ্গে সহিংসতা চলাকালীন নিজেদের বা অন্যের জীবন রক্ষা করা ছাড়া প্রাণঘাতি পদক্ষেপ নেবার বিষয়ে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গণমাধ্যম সিএনএন ভারতীয় রাজনৈতিক আইএইচএস এক্সক্লুসিভ এনালাইসিস-এর উপপ্রধান রমেন বোসের মতামত তুলে ধরে বলেছে, স্থিতিশীলতার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক মহলের এ ধরনের মন্তব্যও আমাদের জন্য ইতিবাচক কোনো কিছুর ইঙ্গিত দেয় না নিশ্চয়ই!
নজীরবিহীন সহিংসতা অব্যাহত হলে তা শেষ পর্যন্ত জামায়াতের ‘গৃহযুদ্ধের হুমকি’ বাস্তবায়নের কাজটি বহুলাংশে এগিয়ে নেবে, দেশের পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে; এবং এর পরিণতিতে অগণতান্ত্রিক কোনো শক্তির আবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় জগদ্দল পাথরের মতো জেঁকে বসার পরিস্থিতি তৈরি করবে বলে অনেকের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে ক্ষমতার মেয়াদ দীর্ঘায়িত করতে সরকারের টার্গেট হোক অথবা যুদ্ধাপরাধের বিচার ঠেকাতে জামায়াত-শিবিরের মরণকামড়, যাই হোক না কেন; দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা রক্ষা ও গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখার বিষয়টিকেই সকলে অগ্রাধিকার দেবেন- সচেতন নাগরিকের এটুকু প্রত্যাশা করা কি অত্যুক্তি হবে?