Showing posts with label আবৃত্তির কবিতা. Show all posts
Showing posts with label আবৃত্তির কবিতা. Show all posts

Saturday, April 6, 2013

বিদ্রোহী (কবিতা)/কাজী নজরুল ইসলাম

বিদ্রোহী 

কাজী নজরুল ইসলাম

বল বীর-
বল উন্নত মম শির!
শির নেহারী' আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রীর!
বল বীর-
বল মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি'
চন্দ্র সূর্য্য গ্রহ তারা ছাড়ি'
ভূলোক দ্যূলোক গোলোক ভেদিয়া
খোদার আসন ‘আরশ’ ছেদিয়া,
উঠিয়াছি চির-বিস্ময় আমি বিশ্ববিধাতৃর!
মম ললাটে রুদ্র ভগবান জ্বলে রাজ-রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর!
বল বীর-
আমি চির-উন্নত শির!
আমি চিরদুর্দম, দূর্বিনীত, নৃশংস,
মহাপ্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস!
আমি মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর,
আমি দূর্বার,
আমি ভেঙে করি সব চুরমার!
আমি অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল,
আমি দ’লে যাই যত বন্ধন, যত নিয়ম কানুন শৃঙ্খল!
আমি মানি না কো কোন আইন,
আমি ভরা-তরী করি ভরা-ডুবি, আমি টর্পেডো, আমি ভীম ভাসমান মাইন!
আমি ধূর্জটী, আমি এলোকেশে ঝড় অকাল-বৈশাখীর
আমি বিদ্রোহী, আমি বিদ্রোহী-সুত বিশ্ব-বিধাতৃর!

Wednesday, March 27, 2013

নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ/রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ (প্রভাতসংগীত)
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১)

আজি এ প্রভাতে        প্রভাতবিহগ
    কী গান গাইল রে!
অতিদূর দূর        আকাশ হইতে
    ভাসিয়া আইল রে!
না জানি কেমনে        পশিল হেথায়
    পথহারা তার একটি তান,
    আঁধার গুহায় ভ্রমিয়া ভ্রমিয়া
    গভীর গুহায় নামিয়া নামিয়া
    আকুল হইয়া কাঁদিয়া কাঁদিয়া
          ছুঁয়েছে আমার প্রাণ।
আজি এ প্রভাতে        সহসা কেন রে
    পথহারা রবিকর
আলয় না পেয়ে        পড়েছে আসিয়া
    আমার প্রাণের ’পর!
বহুদিন পরে        একটি কিরণ
    গুহায় দিয়েছে দেখা,
পড়েছে আমার        আঁধার সলিলে
    একটি কনকরেখা
    প্রাণের আবেগ রাখিতে নারি
    থর থর করি কাঁপিছে বারি,
    টলমল জল করে থল থল,
    কল কল করি ধরেছে তান।
আজি এ প্রভাতে        কী জানি কেন রে
    জাগিয়া উঠেছে প্রাণ।
    জাগিয়া দেখিনু চারিদিকে মোর
    পাষাণে রচিত কারাগার ঘোর,
বুকের উপরে        আঁধার বসিয়া
    করিছে নিজের ধ্যান।
না জানি কেন রে        এতদিন পরে
    জাগিয়া উঠেছে প্রাণ।

জাগিয়া দেখিনু আমি আঁধারে রয়েছি আঁধা,
আপনারি মাঝে আমি আপনি রয়েছি বাঁধা।
রয়েছি মগন হয়ে আপনারি কলস্বরে,
ফিরে আসে প্রতিধ্বনি নিজেরি শ্রবণ-’পরে।
দূর দূর দূর হতে ভেদিয়া আঁধার কারা
মাঝে মাঝে দেখা দেয় একটি সন্ধ্যাতারা।
তারি মুখ দেখে দেখে    আঁধার হাসিতে শেখে,
তারি মুখ চেয়ে চেয়ে করে নিশি অবসান।
শিহরি উঠে রে বারি,     দোলে রে দোলে রে প্রাণ,
প্রাণের মাঝারে ভাসি    দোলে রে দোলে রে হাসি,
দোলে রে প্রাণের ’পরে আশার স্বপন মম,
দোলে রে তারার ছায়া সুখের আভাস-সম।
মাঝে মাঝে একদিন আকাশেতে নাই আলো,
পড়িয়া মেঘের ছায়া কালো জল হয় কালো।
আঁধার সলিল-’পরে    ঝর ঝর বারি ঝরে
ঝর ঝর ঝর ঝর, দিবানিশি অবিরল-
বরষার দুখ-কথা, বরষার আঁখিজল।
শুয়ে শুয়ে আনমনে দিবানিশি তাই শুনি
একটি একটি ক’রে দিবানিশি তাই গুনি,
তারি সাথে মিলাইয়া কল কল গান গাই-
ঝর ঝর কল কল- দিন নাই, রাত নাই।
এমনি নিজেরে লয়ে রয়েছি নিজের কাছে,
আঁধার-সলিল-’পরে আঁধার জাগিয়া আছে।
এমনি নিজের কাছে খুলেছি নিজের প্রাণ,
এমনি পরের কাছে শুনেছি নিজের গান।

Wednesday, March 20, 2013

মানুষ জাগবে ফের/আনিসুল হক

মানুষ জাগবে ফের
আনিসুল হক

হে তরুণ হে যুবক
হে শ্রমিক হে কৃষক
মেনো না হতাশা
আবার আসবে দিন সূর্যিত আলোর
আবার আসবে দিন সমূহ উজ্জ্বল
মানুষ জাগবে ফের, জাগবে মানুষ।

নিদারুণ দুঃসময়ে আমাদের অধিবাস আজ
নির্দয় সূর্যের তাপে ফেটে যায় মাটি ও মনন
কামরুলী জানোয়ার দাঁতে ঘষে দাঁত
জয়নুলের কাকেরা করে কা-কা স্বদেশ ভাগাড়ে
কাক ও কুকুর ছাড়া আর কোন প্রাণী যেন নেই
হতাশা ও ধোঁয়া ছাড়া আর কোন দৃশ্যকল্প নেই
মানুষ নিরাশ আজ মানুষের আস্থা নেই অন্নদাত্রী মৃত্তিকার প্রতি।
চারিদিকে অন্ধকার ছিদ্রহীন শেষহীন অদ্ভুত আধাঁর
বিলাপ ও আর্তনাদ ছাড়া কোন উচ্চারণ নেই
আপোষ ও বেঈমানী ছাড়া আর কোন রাজনীতি নেই
উৎকোচ ও দুর্নীতি ছাড়া কোন কারবার নেই
সামরিক উর্দি ছাড়া আর কোন ভগবান নেই।
মানুষ ঘুমিয়ে সব বেঘোরে অঘোরে যেন অনন্ত শয়নে।
তথাপি হে সাথী
হে কৃষক ক্ষেতের মজুর
ছাত্র বন্ধু
শ্রমজীবী মৌলিক মানুষ
হে কামার হে কুমোর জেলে তাঁতী মাঝি-মাল্লা কুলি
একবার প্রাণ খুলে কান পেতে ধরো
একবার অন্তর্দৃষ্টি মেলে ধরে দ্যাখো
মানুষ কি জানে নাই তুফানের প্রচন্ড গতিতে
জীবন কি জাগে নাই মরণের আবরণ ভেঙে
জীবন কি জানে নাই বারুদের বিস্ফোরণ ঠেলে?
বাহান্নোয় একদিন জেগেছিল সব
আবার আসেনি কি মহাজাগরণ
সুমহান একাত্তরে?
বেহেশ্ত হতে নয়
মানুষের মাঝ থেকে

মানবিক কন্ঠ কি গর্জে ওঠে নাই
‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

কলিমুদ্দিন শেখ মুই, অমপুরে আবাস হামার
বিশ্বাস কি অয় বাহে এই মুই যুদ্ধে গেছিলাম
মুইতো একেলা নও অনেকেই আছিল সাথোত
লাঙ্গল ফেলিয়ে বাহে এই হাতে অস্ত্র নিছিলাম।
সময় দিয়াছে ডাক হামার কি সাধ্য বসি থাকিবো ঘরোত
ঘরের বাহির হয়া ঝাঁপ দিই আকুল গাঙ্গেতে
চোখে মোর এক ছবি সামনের তীরেতে নতুন
জীবনতো আছে এক, সোনার খাঁচায় নয়,
ক্যামন স্বাধীন এক নতুন জীবন,
আকুল বানের তোড়ে ভাসি ভাসি যুদ্ধে চলি যাই
হামার দ্যাশের লাগি কলিম কিষাণ মুই যুদ্ধে চলি যাই
মরণের ভয়ডর ফেলি মুই যুদ্ধে চলি যাই
দু’মুঠা ভাতের লাগি যুদ্ধে চলি যাই।
দারুণ মিছিল আসে মানুষের মুক্তির মিছিল
আসে চাষা আসে চাষী অস্ত্র তুলে নেয়
আসে ছাত্র আসে যুবা অগ্নি জ্বেলে দেয়
আসে মাতা আসে বধু দাহ তেলে দেয়।

মানুষের উদ্বোধনে অবিশ্বাসী হয়ো না মানুষ
মানুষের উজ্জীবনে আস্থাহীন হয়ো না সারথী
আবার আসবে সেই সময়ের বাঁক
আবার আসবে সেই জাগরণী ধবল প্রহর
ইতিহাসের প্রগতি রুদ্ধ করে শক্তি আছে কার
মানুষের অগ্রযাত্রা বন্ধ করে শক্তি আছে কার।
মানুষ জাগবে ঠিক
পুনরায় জাগবে মানুষ।